Saturday, January 02, 2016

Sukumar Ray as a writer of dark comedy

সুকুমার রায়ের লেখা পড়েনি এমন বাঙালী বিরল! বিশেষ করে পুজোর সময়ে, প্রতিটি পাড়ার সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে, কোনো না কোনো ছোটো বাচ্ছা "বাবুরাম শাপু" আবৃত্তি করেই থাকে! এটা বোধায়ে আজকাল একটা ট্রাডিশনের পর্যায়ে পড়ে। হঠাত আমার মনে হল কান্ডটি কিন্তু নেহাত বেমানান!  

ভেবে দেখুন: "সেই শাপ" কে "তেড়ে মেরে" ঠান্ডা করাটা কি ভালো কাজ? ওরকম কূট বুদ্ধি কটা ছোটো ছেলে ভেবে বার করবে? বেশ একটা ব্যঙ্গের আভাস পাওয়া যায়েনা কি এই কবিতার মধ্যে? পরিষ্কার এটা সেই সব অকর্মন্য বড়দের কবিতা, যারা কিনা দুর্বলের দুর্বলতার সুযোগ হামেশাই নিয়ে থাকে! 

আরো আছে.. "গোঁফ চুরি" র কথা ভাবুন। ডিলবার্টের কমিক্স যারা পড়ে থাকেন, তারা সেই গল্পে হেড অফিসের বড়বাবুকে কখনো দেখতে পান কি? গোঁফ জোড়া অক্ষত থাকা সত্তেও গোঁফের অভাব ভদ্রলোককে পাগল করে ফেলেছে! এ দুঃক্ষ তো বালসুলভ নয়! আমাদের মধ্যে আমরা যা দেখতে পাই, অনেক সময়ই অন্যে তা দেখতে পায় না! আবার অন্যে যা দেখতে পায়ে, আমরা তা নাও দেখতে পেতে পারি! এই দুই ভাবমূর্তিকে মিলিত করার চেষ্টা নেহাতই পরিনত মস্তিস্কের যুদ্ধ! ছোটো বয়েসে এরকম চিন্তা আমার কাছে অবিশ্বাস্য।

হ জ ব র ল র কথা ভাবা যাক। "পণ্ডিত কাক, বি-এ পাশ ছাগল, উকিল কুমির, আর হাকিম হুতোম প্যাঁচা"। এই সংযোগ আন্তাব্রি হতে পারে কখনো? গোবেচারা বি-এ পাশ সরল, শান্ত ছাগলের মতন| ধূর্ত উকিল কুটিলচিন্তাশীল কুমিরের মতন। আমার কাছে মনে হয়েছে লেখক তার একরকম মানসিক বিতৃষ্ণা এখানে প্রকাশ করে ফেলেছেন। তার কাছে বোধায়ে মানুষের মধ্যে বৈচিত্রের একটু অভাব চোখে পড়েছে| এই যে স্বপ্নে কঠিন দুর্বোধ্য অঙ্ক কষে যাচ্ছে সকলে। আর তার থেকে বেরোচ্ছে অদ্ভত নির্দেশ! মানুষের অন্ধভাবে কিছু একটা মেনে চলাকে অবজ্ঞা করছেন কি সুকুমার?

অবাক লাগছে! এই মর্মে সুকুমার রায়ের সৃষ্টির আলোচনা কোথাও দেখতে পেলাম না ইন্টারনেট ঘেঁটে! অথচ একটু মনোযোগ খরচ করলেই, মানুষের মনের অন্ধকার দিকের কথা, তার নীরব সংগ্রামের কথা, তার  দুর্বলতার কথা, অনেক লেখাতেই স্পষ্ট পাওয়া যাচ্ছে! 

Followers